যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার রায় জালিয়াতিসহ পাঁচ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল খারিজ

ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যাসহ পৃথক পাঁচটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন বহাল রেখেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল খারিজ করে এই আদেশ দেন।
পাঁচ মামলার মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা মামলা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা চারটি মামলায় গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট থেকে জামিন পান সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আরেকটি মামলায় ১১ মার্চ তিনি জামিন পান।
পরবর্তীতে এসব জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। ৮ এপ্রিল চেম্বার আদালতে আবেদনগুলো শুনানির জন্য ২৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয় এবং পরবর্তীতে মঙ্গলবার চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকীসহ একাধিক আইনজীবী।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিল বিভাগের রায়ে হাইকোর্টের দেওয়া পাঁচ মামলার জামিন বহাল রয়েছে। ফলে অন্য কোনো মামলায় বাধা না থাকলে তার মুক্তিতে আইনগত কোনো জটিলতা নেই।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, জামিন পাওয়ার পরও যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার আরও দুটি হত্যা মামলায় তাকে ৩০ মার্চ গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে একাধিক হত্যা, দুর্নীতি এবং রায় জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।