চট্টগ্রামসহ সারাদেশে জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়াতে সংসদ সদস্যদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংসদ অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরলে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম শহরের একটি বড় অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই সমস্যা শুধু চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সারাদেশেই এটি একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারও একই ধরনের খাল খনন কর্মসূচি আবার চালু করেছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরের খাল, নালা ও লেকগুলোর মুখ প্লাস্টিক বোতল, পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ড্রেন পরিষ্কার করার পরও কিছুদিনের মধ্যে আবার তা ময়লা ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যা সমস্যাকে আরও জটিল করছে।
তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। জনগণকে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহারে সচেতন করা এবং সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অভ্যস্ত করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সঙ্গে ইতোমধ্যে তার কথা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ চলছে। তবে বড় পরিসরে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
চট্টগ্রামের নাগরিকদের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।