রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম ইউনিটে সম্পূর্ণ জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে অন্তত ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে।
এই ধাপ শেষ হলে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ উন্মুক্ত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে মোট ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তিধারী দেশের তালিকায় যুক্ত হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় বহু গুণ শক্তিশালী। মাত্র কয়েক গ্রাম ইউরেনিয়াম থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন সম্ভব, যা কয়লা, গ্যাস বা ডিজেলের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।
জ্বালানি লোডিং অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) প্রতিনিধি এবং রুশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “জ্বালানি লোডিং দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা এখন সফল উৎপাদনের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”
নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ইতোমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রশিক্ষণ শেষে অপারেটিং লাইসেন্স পেয়েছেন। ধাপে ধাপে পুরো প্রকল্পের দায়িত্ব দেশীয় বিশেষজ্ঞদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।
ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প চালু হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।