রাজশাহীর তানোরে শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটের কারণে মাঠে পড়ে আছে পাকা ধান। কম দাম ও বৈরী আবহাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

রাজশাহীর তানোর উপজেলা-এ শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটের কারণে মাঠে পড়ে আছে পাকা ধান। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধানের কম দাম এবং বৈরী আবহাওয়া, ফলে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিলপাড়ের জমিগুলো পাকা ধানে ভরপুর হলেও শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। একই সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কৃষকরা জানান, বর্তমানে এক মণ ধানের দাম কম হওয়ায় (৮০০–১১০০ টাকা) শ্রমিক খরচও ওঠে না। ফলে অনেক শ্রমিক কাজ করতে আগ্রহী নন।
স্থানীয় কৃষক সাহেব বলেন, এবার ধান পেকে গেলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। প্রচণ্ড গরম ও সম্ভাব্য ঝড়ের কারণে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিচু জমির ধান ইতোমধ্যেই মাটিতে নুয়ে পড়েছে, যা কাটতে আরও বেশি খরচ হচ্ছে।
তালন্দ এলাকার কৃষক আমিনুল, আরশাদসহ অনেকে জানান, সার সংকট, জ্বালানি সংকট ও বাজারদরের পতনের কারণে কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তাদের মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে আসা মৌসুমি শ্রমিকরা এবার জ্বালানি সংকটের কারণে আসতে পারছেন না। ফলে স্থানীয় শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যাদের সংখ্যা খুবই কম।
শ্রমিকরা প্রতিদিন সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টা কাজ করে ৫০০–৮০০ টাকা মজুরি নিচ্ছেন, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ফলে বিঘাপ্রতি ধান কাটার খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৭ হাজার টাকায়।
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত ধান বিক্রি করে অনেক ক্ষেত্রেই লোকসান হচ্ছে ৩–৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এ বিষয়ে সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, দ্রুত ধান কাটা জরুরি, কারণ যেকোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দিতে পারে।