
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা ‘মিজেলস’ ভাইরাস দ্বারা সৃষ্টি হয়। এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত), সর্দি-কাশি, লাল ও পানিপূর্ণ চোখ এবং শরীরজুড়ে লালচে ফুসকুড়ি বা দানা।
সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ১০-১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথমে মুখ ও কানের পেছন থেকে ফুসকুড়ি শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ৩-৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেক শিশুকে জ্বর ও র্যাশ নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে, এবং অনেক ক্ষেত্রে হাম শনাক্ত হচ্ছে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা জানিয়েছেন, হাম ভাইরাস শ্বাসনালীর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। ফলে আক্রান্ত শিশুরা সহজেই অন্যান্য সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত হলে শিশুর শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা চোখের সমস্যা এমনকি অন্ধত্বের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
হাম খুব দ্রুত ছড়ায় এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে আশপাশের অন্য শিশুদের আক্রান্ত করতে পারে। তাই আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ৫ দিন আলাদা রাখতে হবে।
যদি শ্বাসকষ্ট, তীব্র ডায়রিয়া, বমি, খিঁচুনি বা চোখের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।