
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল) বলেছেন, কখনো কল্পনা করিনি দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তার সাংবিধানিক পদে যাব। আমি এই মাটির কাছে খুব কৃতজ্ঞ।
আজ শুক্রবার ব্যক্তিগত সফরে জন্মস্থান ঝিনাইদহের মহেশপুরে আসেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
এদিন মায়ের কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন সন্তানের সাফল্যে যিনি সবচেয়ে বড় বেশি খুশি হন, তিনি হচ্ছেন মা। সন্তানের সম্মানে কিংবা অর্জনে মায়ের যে গর্বের জায়গা, আনন্দের জায়গা আমার মা বেঁচে থাকলে আজ সেটা অবশ্যই করতেন। তবে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আমার আব্বা এখনো জীবিত আছেন। আমার মা আমার প্রথম শিক্ষক ছিলেন, আর পরিবারের প্রথম শিক্ষক ছিলেন আমার দাদা। আমার পরিবারের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল তাদের সন্তানদেরকে লেখাপড়া শেখানো।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল) বলেন, আজকে যে মাটিতে আমি দাঁড়িয়ে আছি, এখানকার এই স্কুলে আমি পড়েছি। আমি চিন্তাই করতে পারিনি জীবনে কোনদিন এই স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কোনদিন হাই স্কুলে যাব। জীবনে চিন্তা করতে পরিনি যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে লন্ডনে গিয়ে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবো। জীবনে কল্পনা করতে পারিনি আমার উকালতি জীবনের পাশাপাশি আমি কোনদিন বিদেশে কুটনীতিক হিসেবে চাকরি করবো। কখনো কল্পনা করিনি যে, বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তার (অ্যাটর্নি জেনারেল) সাংবিধানিক পদে যাব। আমি এই মাটির কাছে খুব কৃতজ্ঞ।
নিজের স্কুল জীবনের কথা স্মরণ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমার এখনো মনে আছে আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন অত্যন্ত ভালো ছাত্র ছিলাম। আমার আব্বা আমদের গ্রাম থেকে মহেশপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাইল বাইসাইকেলে চড়িয়ে সারাটা পথ আমাকে ইংরেজি শিখাতো, কবিতা শেখাতো। পুরাটা পথ পিতা আর সন্তানের একমাত্র বিষয়বস্তু থাকতো লেখাপড়া। আমি ছোট বেলায় দুষ্ট ছিলাম। আমার মা-বাবা আমাকে যদি ছোট বেলায় শাসন না করতো তাহলে হয়ত আজকের এই জায়গায় আসতে পারতাম না।
আগামী প্রজন্মের উদ্দেশ্য অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমার এই গ্রামের অনেক শিশুরা আজ আমার সামনে এসেছে।
প্রত্যেককে বলেছি ‘তোমরা ভালো করে পড়াশোনা করবা। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবা। আর জীবন চলার পথে যদি সততা থাকে, কর্মনিষ্ঠা থাকে নিশ্চয়ই সফলতা একদিন না একদিন আসবেই। আমাদের দরকার ধৈর্য, সততা, কর্মনিষ্ঠা, লেখাপড়া এবং দেশপ্রেম।’