
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের পুঁজিবাজারকে উন্নত, প্রাণবন্ত ও গতিশীল করতে সরকারের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের একটি শক্তিশালী উৎসে পরিণত হয়।
তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (নোয়াখালী-৫)-এর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকার পুঁজি বাজারকে শক্তিশালী ও টেকসই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নিরলসভাবে কাজ করছে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারেও এ খাতের উন্নয়নে নির্দিষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করেছে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আর্থিক পণ্যের বহুমুখীকরণ ও বিনিয়োগ শিক্ষা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে একটি টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে ওঠে।
তিনি জানান, বাজারের গভীরতা বাড়াতে শক্তিশালী বন্ড বাজার গড়ে তোলা, মৌলভিত্তি শক্তিশালী কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা ও তালিকাবহির্ভূত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), সুকুক (ইসলামিক বন্ড) ও গ্রিন বন্ড চালু, মিউচুয়াল ফান্ডে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং কমোডিটি ও ফাইন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধ, তদন্ত ও প্রয়োগ কার্যক্রম জোরদার, বাজার আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন, দেশ-বিদেশ থেকে সহজে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষা ও কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স এবং ১৯৯৩ সালের বিএসইসি আইন একীভূত করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ২০২৫-এর খসড়া পর্যালোচনাধীন রয়েছে। এছাড়া অবণ্টিত লভ্যাংশ, আইপিও তহবিল ও অদাবিকৃত শেয়ার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন, ২০২৬-এর খসড়াও পর্যালোচনায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা বিধিমালা, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ ও টেকসই বন্ড অন্তর্ভুক্ত করে ডেট সিকিউরিটিজ রুলস ২০২১ সংশোধন এবং অডিটর ও অডিট ফার্ম তালিকাভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে।
বিনিয়োগ সচেতনতা বাড়াতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে বিনিয়োগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং জেলা তথ্য অফিসগুলো জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে। ‘নিরাপদ বিনিয়োগ, সচেতন নাগরিক’ কর্মসূচির আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘পুঁজিবাজারের জানা-অজানা’ শিরোনামে পাক্ষিক বিনিয়োগ শিক্ষা অনুষ্ঠান সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।