
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, নির্বাচন সহজ হবে না। তিনি বলেন, “আমি আগে যে কথা বলেছিলাম, নির্বাচন অত সহজ হবে না, ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই।” তারেক রহমান শুক্রবারের ঘটনা (হাদির ওপর হামলা) এবং চট্টগ্রামে প্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, তার আগের করা মন্তব্যগুলো ধীরে ধীরে সত্য হচ্ছে।
শনিবার খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান দেশের এই পরিস্থিতিতে সবাইকে মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা যদি নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে না আনি, আমরা যদি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ না হই, এ দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।”
তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গেলেও জনগণ শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে অথবা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশকে খাদ থেকে বের করে এনেছে। ষড়যন্ত্র আরও খারাপ হতে পারে এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভয় পেলে চলবে না, মানুষকে সাহস দিতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
চট্টগ্রামে ও ঢাকায় দুই প্রার্থীর ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “এ ঘটনা দিয়ে কেউ ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে।” ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা ভেবে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
বিএনপির পরিকল্পনাগুলো, যেমন খাল খনন, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বেকার সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে আমি কী পেলাম তা বাদ দিতে হবে। দেশ ও জাতির জন্য কতটুকু করতে পারলাম, সেটাই মুখ্য।”
তারেক রহমান বলেন, “এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। এ যুদ্ধে জিততে হলে জনগণকে সঙ্গে নিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তারেক রহমানকে ‘গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক’ আখ্যায়িত করে বলেন, “তারেক রহমান আগামী ২৫ তারিখে বাংলাদেশে ফিরে আসবেন।”