২০২৫ সালে পৃথিবীতে আটকে থাকা তাপ রেকর্ড মাত্রায়, হাজার বছর স্থায়ী হতে পারে প্রভাব

নিজেস্ব প্রতিবেদক , সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬






                                        
                                       
ডব্লিউএমওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্বও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

২০২৫ সালে পৃথিবীতে আটকে থাকা তাপের পরিমাণ রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির State of the Global Climate 2025 প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা বা এনার্জি ইমব্যালান্স ৬৫ বছরের পর্যবেক্ষণ ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালই রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে উষ্ণ ১১ বছর। ২০২৫ সাল ছিল রেকর্ডের দ্বিতীয় বা তৃতীয় উষ্ণতম বছর, যা ১৮৫০-১৯০০ সময়ের গড়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ ছিল।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু এখন জরুরি অবস্থায় রয়েছে এবং জলবায়ুর প্রতিটি প্রধান সূচকই লাল সংকেত দেখাচ্ছে। তার ভাষায়, মানবজাতি টানা ১১টি উষ্ণতম বছর পার করেছে, যা আর কাকতালীয় নয়; বরং এটি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট আহ্বান।

প্রথমবারের মতো ডব্লিউএমওর এই বার্ষিক প্রতিবেদনে পৃথিবীর এনার্জি ইমব্যালান্সকে প্রধান জলবায়ু সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থিতিশীল জলবায়ুতে সূর্য থেকে আসা শক্তি ও পৃথিবী থেকে বেরিয়ে যাওয়া শক্তির পরিমাণ প্রায় সমান থাকে। কিন্তু কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো তাপ ধারণকারী গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় এই ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ডব্লিউএমওর মতে, গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব অন্তত ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেছেন, মানুষের কর্মকাণ্ড প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্রমেই নষ্ট করছে এবং এর প্রভাব শত শত থেকে হাজার বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। অতিরিক্ত তাপের ৯১ শতাংশের বেশি সাগরে জমা হচ্ছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সমুদ্রের তাপমাত্রা নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। ২০০৫ থেকে ২০২৫ সময়ে সমুদ্র উষ্ণ হওয়ার হার ১৯৬০ থেকে ২০০৫ সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। সমুদ্রের এ উষ্ণতা সামুদ্রিক প্রতিবেশের অবনতি, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং কার্বন শোষণ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি শক্তিশালী ঝড়, সমুদ্রের বরফ গলন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।

ডব্লিউএমও আরও জানিয়েছে, ১৯৯৩ সালে স্যাটেলাইট পরিমাপ শুরু হওয়ার পর থেকে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা প্রায় ১১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আর্কটিক সাগরের বরফের বিস্তৃতি ২০২৫ সালে উপগ্রহ যুগে সর্বনিম্ন বা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বরফস্তরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ডব্লিউএমওর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে বৈশ্বিক আবহাওয়া এখনও লা নিনার প্রভাবে রয়েছে। তবে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নিরপেক্ষ অবস্থা দেখা যেতে পারে এবং বছরের শেষ দিকে এল নিনো গড়ে উঠলে ২০২৭ সালে আবারও উচ্চ তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। সংস্থাটির মতে, ভবিষ্যৎ চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

  • kagoj
  • Kagojer patrika
  • Kagojerpatrika
  • patrika
  • patrikakagojer
  • paাtrikakagojer