ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সচিবকে অপসারণের দাবিতে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম অতিক্রান্ত হওয়ার পর আজ ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি প্রতিনিধিদল। আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বেলা ২টার দিকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সচিবের অপসারণ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ছাত্র প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু: স্মারকলিপিতে দেওয়া আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর প্রতিনিধিদল চেয়ারম্যানের কাছে সচিবকে অপসারণের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। এবং সচিব জুলাই গনঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকারীদের "রাজাকার " বলে আখ্যায়িত করে সে কেন ইউজিসির সচিব পদে বহাল রয়েছে, জবাবে চেয়ারম্যান জানান, আগামী ২৮ তারিখে একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন সার্ক কনফারেন্সের কারণে এই মুহূর্তে সচিবকে অপসারণ করা সম্ভব নয়; কারণ, তার বিকল্প কোনো ‘যোগ্য’ ব্যক্তি ইউজিসিতে নেই। চেয়ারম্যানের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান ডিরেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তারা পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট শাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত; ফলে, নতুন বিতর্ক এড়াতে কাউকে সচিব পদে বসানো যাচ্ছে না।
প্রতিনিধিদলের অবস্থান: চেয়ারম্যানের এমন যুক্তি নাকচ করে দিয়ে ছাত্র প্রতিনিধিরা বলেন, বিগত দেড় বছরে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্বের জন্য তৈরি করতে না পারা ইউজিসি প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা এবং এই দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে। প্রতিনিধিরা দাবি করেন যে, যদি ইউজিসি সচিবকে অপসারণে অপারগ হয়, তবে তা লিখিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান অসহিষ্ণু আচরণ করেন এবং কোনো লিখিত বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য: সাক্ষাৎকার শেষে প্রতিনিধিরা জানান, “আমরা এর আগেও মৌখিকভাবে অনুরোধ করেছি এবং পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসনের অকর্মণ্যতা ও কালক্ষেপণ প্রমাণ করে তারা সংস্কারের পক্ষে নয়। জাতির সামনে তাদের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।”
উপস্থিত ছিলেন: উক্ত সাক্ষাৎকারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন— মোতাসিম বিল্লাহ মাহফুজ, সম্পাদক, লিগ্যাল সেল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি;ফারহান দিনার, সমন্বয়ক, ঢাকা মহানগর সমন্বয় কমিটি;আব্দুর রহিম, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলা কলেজ;শেরে বাংলা থানার প্রতিনিধিদলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পরবর্তী কর্মসূচি: ইউজিসি প্রশাসনের এই হতাশাজনক ও অসহিষ্ণু ভূমিকার প্রতিবাদে এবং সচিবের অপসারণের একদফা দাবিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন অচিরেই আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় সত্যিকারের সংস্কার এবং বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।