মে ১ ডেডলাইন সামনে: ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদনে চাপে ট্রাম্প

নিজেস্ব প্রতিবেদক , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬






                                        
                                       
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমোদনের চাপে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে গিয়ে বড় আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন Donald Trump। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো সশস্ত্র সংঘাত শুরু করার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন না পেলে প্রেসিডেন্টকে সেই অভিযান বন্ধ করতে হয়—এমন পরিস্থিতিতেই এখন দাঁড়িয়ে ট্রাম্প প্রশাসন।

১৯৭৩ সালের War Powers Act অনুযায়ী, সামরিক অভিযান শুরুর ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। সেই হিসেবে আগামী ১ মে এই সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে সময়সীমার আগে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের যৌথ অনুমোদন না পেলে ট্রাম্পকে আইনগতভাবে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নিতে হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও তেহরানের ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন না পেলে এই অভিযান চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

আইন অনুযায়ী, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয় এবং এরপর ৬০ দিন পর্যন্ত একক সিদ্ধান্তে সেনা মোতায়েন রাখা যায়। বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা আরও ৩০ দিন বাড়ানো সম্ভব হলেও সেটির জন্যও প্রয়োজন যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে এবং কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা বা অনুমোদন না দিলে প্রেসিডেন্টকে সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হওয়ার কথা। তবে অতীতে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান চালিয়েছেন।

বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গভীর বিভাজন থাকায় ট্রাম্পের জন্য অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক ভোটাভুটিতে তার যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত নিয়ে উভয় দলের মধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে।

রিপাবলিকান সিনেটর John Curtis ইতোমধ্যেই সতর্ক করে জানিয়েছেন, ৬০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর তিনি আর কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ সমর্থন করবেন না। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ তুলেছেন, এই যুদ্ধ প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে এবং যথাযথ তদারকি নেই।

এদিকে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও উত্তেজনা কমেনি। আরব সাগরে একটি ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেললেও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে তিনি হয়তো অভিযান চালিয়ে যেতে চাইবেন।

সব মিলিয়ে, ১ মে’র ডেডলাইন সামনে রেখে এখন প্রশ্ন উঠেছে—কংগ্রেসের অনুমোদন পাবেন কি না Donald Trump, নাকি আইনগত বাধ্যবাধকতায় তাকে পিছু হটতে হবে। এই সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

  • Iran US conflict news
  • kagoj
  • Kagojer patrika
  • Kagojerpatrika
  • Trump military decision deadline
  • War Powers Act 1973