
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৭) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গতকাল রোববার রাত ১১টার দিকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার মো. বাবলু মিয়া (২৪) ভালুকা উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকার মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে। ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত ১১টার দিকে ভালুকা থানার ডুবালিয়াপাড়া এলাকা থেকে বাবলু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে কারখানার গেটে লোক জড়ো করার মূল ভূমিকায় ছিলেন। তিনি প্রথম কারখানার গেটে লোক সমবেত করে স্লোগানের মাধ্যমে জনতাকে উত্তেজিত ও একত্র করেন। পরে দীপু চন্দ্র দাসকে গেটের সামনে মারধর করে হত্যা এবং মরদেহ মহাসড়কে নিয়ে উত্তেজিত জনতার মাধ্যমে নির্যাতনে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।
ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে কারখানা থেকে এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দীপু চন্দ্র দাস হত্যায় গুরুত্বপূর্ণ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আজ সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ ঘটনায় মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।