
প্রায় দুই দশক পর অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিলেও নতুন সরকারকে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ ও জন-আকাঙ্ক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে International Crisis Group এই মত দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিএনপিকে এখন বহুমাত্রিক কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে জরুরি এবং আশু কাজ হলো দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বর্তমান পরিস্থিতিকে নাজুক করে রেখেছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব যুক্ত হয়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
এছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারে দ্রুত অগ্রগতি না হলে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন হবে। পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, দুর্নীতি দমন এবং বিচারব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা—এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে প্রতিশোধমূলক রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সরকারকে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু যেমন গঙ্গার পানি বণ্টন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে কার্যকর কূটনীতি জরুরি।
সবশেষে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, নির্বাচনের পরবর্তী ‘হানিমুন পিরিয়ড’ কাজে লাগিয়ে যদি সরকার দ্রুত সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে না পারে, তবে জন-অসন্তোষ বাড়তে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা ফের ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হবে।