নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে: ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা তারেক রহমানের

নিজেস্ব প্রতিবেদক , শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬






                                        
                                       

নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে সরকার গঠনের পর বিএনপি সরকার সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে।

শনিবার সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলো একে একে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে।

নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’

তারেক রহমান জানান, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই কার্ড সারাদেশে বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া আগামী ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। কৃষকদের সহায়তা ও কৃষি খাতে উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে, যা কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ধর্মীয় নেতাদের জন্য আর্থিক সহায়তা

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আজ থেকে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশের প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ব্যক্তিদের এই সহায়তার আওতায় আনা হবে।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নাগরিকদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান

নাগরিকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে আগামী ১০ বছরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।

নৈতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব

ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারে, তবে ধৈর্য, সততা, সহনশীলতা, উদারতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জন ছাড়া প্রকৃত মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিহিংসা ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে ধর্মের ইতিবাচক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ধর্মেই মানবতার কল্যাণ ও নৈতিকতার বার্তা রয়েছে, যা একটি নৈতিক সমাজ গঠনে সহায়ক।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর পেশ ইমাম মুফতি মহিবুল্লাহি বাকি এবং শায়েখে চরমোনাই ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম।

  • kagoj
  • Kagojer patrika
  • Kagojerpatrika
  • patrika
  • patrikakagojer
  • paাtrikakagojer