টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে পড়েছে।
সুনামগঞ্জে বোলাই নদীর পাশের একটি বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে জিনারিয়া হাওরের ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত কয়েক হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে চলে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, মাসের পর মাস কষ্ট করে ফলানো ধান এক মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে গিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন হাওর—নাইন্দার, কাংলার, দেখার ও কনস্কাই বিলসহ অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে পাকা ধান ডুবে গেছে। অনেক কৃষক কোমরসমান পানিতে নেমে শেষ চেষ্টা হিসেবে ধান কাটছেন, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে, যদিও স্থানীয়দের দাবি এই পরিমাণ আরও বেশি। অনেক স্থানে আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে দেশের বৃহত্তম হাকালুকি হাওর-এ পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ ধান ইতোমধ্যে কাটা হলেও মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দাবি, এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসল ঝুঁকিতে রয়েছে।
হবিগঞ্জেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে অন্তত ৩৯টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান ও শাকসবজি প্লাবিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে দ্রুত ধান কাটার নির্দেশনা দেওয়া হলেও শ্রমিক সংকট, জ্বালানি সমস্যা এবং অব্যাহত বৃষ্টির কারণে সব জমির ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং হাওরাঞ্চলে বড় ধরনের বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। কৃষকদের জন্য এটি শুধু ফসলহানিই নয়, বরং জীবিকা সংকটের বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।