
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দেওয়ার অধ্যাদেশ সরকারি দল গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী এসব অধ্যাদেশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে সংসদে বিশেষ কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা করতেই আজ সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ও অংশগ্রহণকারীদের যেভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়ার যে বিষয়টি রয়েছে, তা সরকারি দল গ্রহণ করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ রাজনৈতিক নেতাদের নামে করা হয়েছিল। সেসব নাম বিলুপ্ত করার বিষয়েও কিছু অধ্যাদেশ রয়েছে এবং সেগুলোও গ্রহণ করা হবে। এছাড়া আরও অনেক অধ্যাদেশ রয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে— কোনটি সরাসরি গ্রহণ করা হবে, কোনটি সংশোধনীর মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে এবং কোনটিতে পরে আরও সংশোধনী প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, সময় খুবই সংক্ষিপ্ত। সংসদের প্রথম অধিবেশন গত ১২ মার্চ শুরু হয়েছে এবং পরবর্তী অধিবেশন আগামী ২৯ মার্চ। ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে অবশিষ্ট সময়ের মধ্যেই যতটা সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে কমিটিকে এ বিষয়ে সংসদে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
এর আগে, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন। পরে তার প্রস্তাবের ভিত্তিতে অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা জয়নুল আবেদীন। সদস্যদের মধ্যে আছেন মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এএম মাহবুর উদ্দিন, আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, ফারাজানা শারমীন, জামায়াতে ইসলামীর মো. মজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান এবং জিএম এম নজরুল ইসলাম।
তবে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় মির্জা আব্বাস আজকের বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি।