জুমার দিনের ফজিলত, দোয়া কবুলের বিশেষ সময় ও আমল | ইসলামিক গাইড

নিজেস্ব প্রতিবেদক , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬






                                        
                                       

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনে ইবাদত, দরুদ পাঠ এবং দোয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কুরআন ও হাদিসে এই দিনের মর্যাদা ও বিশেষ মুহূর্তের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই একজন মুমিনের উচিত জুমার দিনকে কেবল নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে পূর্ণভাবে কাজে লাগানো।

পবিত্র কুরআনে জুমা নামে একটি সুরাও রয়েছে। যেখানে মহান এই দিনের তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচাকেনা বর্জন করো। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)।

অন্যদিকে Prophet Muhammad (সা.)-এর হাদিসে জুমার দিনের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে— ‘সূর্য উদয়ের দিবসগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমাবার। সে দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং সেদিনই তাকে বের করা হয়। আর কিয়ামতও হবে জুমার দিনেই।’ (সহিহ মুসলিম)।

এ জন্য জুমার নামাজ অবহেলা করার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, যারা নিয়মিত জুমা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেন এবং তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় (সহিহ মুসলিম, সুনান তিরমিজি)।

জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— এ দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। যদিও সেই সময় নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত নয়, তবে হাদিসে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে এটি খুবই স্বল্প সময়ের জন্য হয়ে থাকে।

আরেকটি হাদিসে উল্লেখ আছে, জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে একটি সময় রয়েছে, বিশেষ করে আসরের পরের সময়টিতে দোয়া বেশি কবুল হয় (সুনান আবু দাউদ)। তাই এই সময়টিতে বেশি বেশি দোয়া করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং নিজের প্রয়োজন আল্লাহর কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া পুরো জুমার দিনই দোয়া ও ইবাদতের জন্য বিশেষ সময় হিসেবে বিবেচিত। ফজরের পর, খুতবার সময়, নামাজের আগে ও পরে— সব সময়ই আল্লাহর কাছে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। খুতবার সময় মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নীরব থাকা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ আমল।

সব মিলিয়ে, জুমার দিন হলো এমন একটি মহামূল্যবান সুযোগ, যেখানে একজন মুসলিম দুনিয়াবি ব্যস্ততার মাঝেও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে পারে। তাই এই দিনটিকে অবহেলা না করে দোয়া, ইস্তেগফার ও ইবাদতের মাধ্যমে যথাযথভাবে কাজে লাগানোই একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে উত্তম।

  • kagoj
  • Kagojer patrika
  • Kagojerpatrika
  • patrika
  • patrikakagojer
  • paাtrikakagojer
  • ইসলামিক দোয়া
  • ইসলামে জুমার গুরুত্ব
  • জুমা নামাজের গুরুত্ব
  • জুমা হাদিস
  • জুমার দিনের আমল
  • জুমার দিনের ফজিলত
  • জুমার দোয়া কবুলের সময়
  • জুমার বিশেষ মুহূর্ত