খাগড়াছড়ির রামগড়ে দরিদ্র কৃষকের ঘরে ১ লাখ ৪ হাজার টাকার ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল এসেছে। মিটার রিডিং ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ অফিস

খাগড়াছড়িতে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রামগড় উপজেলার এক দরিদ্র কৃষকের ঘরে এক মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১ লাখ ৪ হাজার ১১১ টাকা, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
জানা যায়, রামগড়ের পাতাছড়া ইউনিয়নের মাহবুব নগর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক হারুনুর রশীদের ছোট টিনের ঘরে তিনটি কক্ষ রয়েছে। ঘরে ব্যবহৃত হয় মাত্র কয়েকটি বাতি, দুটি ফ্যান ও একটি পানি তোলার মোটর। সাধারণত তার মাসিক বিদ্যুৎ বিল থাকে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
কিন্তু চলতি মার্চ মাসের বিল হাতে পেয়ে তিনি অবাক হয়ে যান। বিদ্যুৎ অফিস থেকে প্রেরিত বিলে উল্লেখ করা হয় ৭ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল দাঁড়ায় ১ লাখ ৪ হাজার ১১১ টাকা।
এই বিল নিয়ে স্থানীয় একটি মোবাইল ব্যাংকিং দোকানে গেলে দোকানদার বিষয়টি দেখে অবাক হন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে রামগড় বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা কৃষকের বাড়িতে গিয়ে বিলের কপি সংগ্রহ করেন এবং বিষয়টি সংশোধনের আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগী কৃষক জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তার বিদ্যুৎ বিল যথাক্রমে ৮৮ ও ৯২ টাকা ছিল। হঠাৎ এত বড় অঙ্কের বিল আসায় তিনি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রামগড় এলাকায় প্রায়ই ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের ঘটনা ঘটে। শুধু সাধারণ গ্রাহক নয়, সরকারি অফিসও এ ধরনের সমস্যার শিকার হচ্ছে। অভিযোগ দিলেও অনেক সময় কার্যকর সমাধান পাওয়া যায় না।
একজন গ্রাহক বলেন, “অভিযোগ দিলে বলা হয় পরের মাসে ঠিক হবে, কিন্তু বাস্তবে সমস্যা থেকে যায়।”
এ বিষয়ে রামগড় বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী কাওসার আহমেদ জানান, মিটার রিডিং নোটে ভুলের কারণে ৭০ ইউনিটের স্থলে ৭ হাজার ইউনিট লেখা হয়েছে, যার ফলে এই অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সংশোধন করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল যাতে না হয়, সে জন্য আরও সতর্কতা নেওয়া হবে।