ঈদের লম্বা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, ৬০ শতাংশের বেশি হোটেল কক্ষ আগাম বুকিং

নিজেস্ব প্রতিবেদক , সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬






                                        
                                       
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামার সম্ভাবনা। ৫০০টির বেশি হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের ৬০ শতাংশের বেশি কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

ঈদের লম্বা ছুটি এলেই ব্যস্ত নগরজীবন থেকে একটু স্বস্তি খুঁজতে দেশের লাখো মানুষের প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত, নীল সমুদ্র, পাহাড়ের ছায়া এবং বিস্তীর্ণ বালুকাবেলার সৌন্দর্যে এবারের ঈদেও পর্যটকদের বড় আকর্ষণের কেন্দ্র হতে যাচ্ছে এই সমুদ্রনগরী। পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ব্যাপক সমাগম হতে পারে এবং ইতোমধ্যে হোটেল বুকিংও দ্রুত বাড়ছে।

হোটেল-মোটেল মালিকদের তথ্যমতে, গত বছরের ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছিলেন। এবার ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিন থেকেই হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, রিসোর্ট ও কটেজে বুকিং শুরু হয়েছে, এবং অনেক প্রতিষ্ঠানে ২৩ মার্চের সরকারি ছুটি পেরিয়েও ৩০ মার্চ পর্যন্ত কক্ষ সংরক্ষণের ধারা দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ৫০০টির বেশি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, এবার ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে অন্তত ১১ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৫০টির বেশি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের ৭০ শতাংশেরও বেশি কক্ষ বুকিং হয়েছে এবং ছুটির দিনগুলোতে প্রতিদিন ১ লাখের বেশি পর্যটক অবস্থান করতে পারেন। এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে ব্যবসায়ীরা বিশেষ ঈদ প্যাকেজ, ছাড় এবং নানা আয়োজনও রেখেছেন।

কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি শুধু সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক ভ্রমণই বাড়ায় না, বরং রেস্তোরাঁ, পরিবহন, স্থানীয় কেনাকাটা, বিনোদন ও সংশ্লিষ্ট আরও বহু খাতে বড় অর্থনৈতিক গতি তৈরি করে। একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ১৩টি খাতে এ সময়ে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে টহল টিম, মোবাইল টিম এবং সাদা পোশাকের গোয়েন্দা টিম মাঠে থাকার কথা জানানো হয়েছে, যাতে পর্যটকদের সঙ্গে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পাশাপাশি অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া আদায়, রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম বাড়ানো এবং পর্যটক হয়রানি ঠেকাতে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারের আকর্ষণ শুধু লাবণী, সুগন্ধা বা কলাতলী সৈকতেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্জন সৈকত, সমুদ্র ও পাহাড়ের মেলবন্ধন, কাছাকাছি দ্বীপ এবং ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা খুঁজছেন এমন ভ্রমণপ্রেমীদের কাছেও কক্সবাজার এখন বিশেষ গন্তব্য। এই বৈচিত্র্যই ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্র হিসেবে আরও এগিয়ে রাখছে।

সব মিলিয়ে, ঈদের লম্বা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামার পূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগাম বুকিং, ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি, প্রশাসনের নজরদারি এবং জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এবারও সমুদ্রনগরী কক্সবাজার জমে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • kagoj
  • Kagojer patrika
  • Kagojerpatrika
  • patrika
  • patrikakagojer
  • paাtrikakagojer