ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটির সময় খুলনার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। ঈদের তৃতীয় দিনেও পরিবার-পরিজন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের উপস্থিতিতে নগরীর বিভিন্ন স্পট উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন নদীর ধারে, পার্কে কিংবা সুন্দরবনে।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে খুলনার মানুষ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় জমাচ্ছেন। উৎসবের দ্বিতীয় দিন থেকেই এসব জায়গায় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সোমবারও সেই ভিড় অব্যাহত রয়েছে।
খুলনার জনপ্রিয় বিনোদন স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে খানজাহান আলী (র.) সেতু বা রূপসা সেতু, শহীদ হাদিস পার্ক, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট, বনবিলাস চিড়িয়াখানা, জাতিসংঘ শিশুপার্ক, দিঘলিয়ার ঈদ মেলা, উল্লাহ পার্ক, খুলনা রিভারভিউ পার্ক, ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক এবং সুন্দরবন। বিশেষ করে রূপসা ব্রিজ, নদীপাড় ও পার্কগুলোতে হাজারো মানুষের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
খুলনার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যেসব বিনোদন কেন্দ্রে প্রবেশ ফি ও রাইড ফি তুলনামূলক বেশি, সেখানে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের উপস্থিতি কিছুটা কম। তবে বিনামূল্যের খোলা স্থান, নদীর পাড় ও মুক্ত বাতাসের জায়গাগুলোতে মানুষের ভিড় অনেক বেশি।
রূপসা ও ভৈরব নদীর তীর, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট, রূপসা সেতুর দু’পাড় এবং নদীসংলগ্ন ফাঁকা স্থানগুলো এখন একেকটি জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ঈদের ছুটিতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই সেখানে সময় কাটাচ্ছেন।
রূপসা তীরের খুলনা রিভারভিউ পার্কেও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জেলা প্রশাসনের পরিচালনায় থাকা এই পার্কের আশপাশের এলাকাও এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। একইভাবে বটিয়াঘাটা থেকে দাকোপমুখী নদীপাড়ের এলাকাগুলোতেও গড়ে উঠেছে নতুন বিনোদন পরিবেশ। সেখানে ফুডকোর্ট, চা ও কফির স্টল দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
এ ছাড়া কেডিএর ময়ূরী আবাসিক এলাকা, শহীদ হাদিস পার্ক, সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক, নিরালা শিশুপার্ক, ফরেস্ট ঘাটসহ নগরীর আরও বেশ কয়েকটি স্থান ছুটির দিনে অঘোষিত বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বড় ধরনের জনসমাগম সামাল দিতে খুলনার পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রূপসা সেতুতে ঘুরতে আসা কলেজছাত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, প্রতিবছর ঈদে এখানে ঘুরতে আসি। পরিচিত অনেকের সঙ্গে দেখা হয়। তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি।
দিঘলিয়ার ঈদ মেলায় আসা দর্শনার্থী আ. রহিম শেখ বলেন, সারা বছর এই মেলার জন্য অপেক্ষা করি। আমাদের এলাকা একটু বিচ্ছিন্ন, শহরে যেতে কষ্ট হয়। তাই এই মেলাই আমাদের ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
অন্যদিকে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, শীত মৌসুম ও ঈদের সময় সুন্দরবনে সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসে। এবারও ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক এসেছে। অতিরিক্ত চাপ সামলাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।