পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটক বরণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটির ব্যবসায়ীরা। নতুন সাজে সেজেছে জেলার পর্যটন মোটেল, ঝুলন্ত সেতু, হোটেল, মোটেল ও বিভিন্ন রিসোর্ট। ইতোমধ্যে জেলার পর্যটনসংশ্লিষ্ট আবাসনগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি বুকিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও প্রশাসন।
রাঙ্গামাটি পর্যটন ও হলিডে কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদুল ফিতরকে ঘিরে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই হলিডে কমপ্লেক্সের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পর্যটকের চাপ আরও বেশি হতে পারে বলে আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে অবকাঠামো ও সেবার মানও উন্নত করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু নতুনভাবে রং করা হয়েছে। আশপাশের এলাকাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজানো হয়েছে। নৌভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য সংস্কারকৃত বোটগুলোও ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ঈদের ছুটিতে বাড়তি পর্যটক সামাল দিতে আগেভাগেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটির বিভিন্ন রিসোর্টও নতুন সাজে সেজে উঠেছে। বিশেষ করে দ্বীপভিত্তিক রিসোর্টগুলোর প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। জেলা পুলিশ পরিচালিত পলওয়েল পার্ক, সেনাবাহিনী পরিচালিত আরণ্যক, মায়াবী দ্বীপ, সুভলং ঝর্ণা এলাকা, কাপ্তাই লেকবেষ্টিত পর্যটন স্পট, রাঙাদ্বীপ, লেকভিউ আইল্যান্ড এবং কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ইতোমধ্যেই দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সবুজ পাহাড়, হ্রদের নীল জলরাশি এবং নির্মল পরিবেশের কারণে প্রতিবছরই রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের ভিড় বাড়ে। তবে ঈদের টানা ছুটিতে সেই চাপ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট সেবাখাতগুলোও ঈদকেন্দ্রিক আয় বৃদ্ধির আশা করছে।
রাঙ্গামাটির বোট মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে বোটগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রং করার কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন পর্যটকদের আগমনের অপেক্ষা। অন্যদিকে, জেলার বেশ কয়েকটি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের অনেক রিসোর্ট প্রায় শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। কিছু রিসোর্টে ২৯ তারিখ পর্যন্ত বুকিং সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানা গেছে। রোজার সময়ে পর্যটক কম থাকায় যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, ঈদের ছুটিতে তা পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
নিরাপত্তার বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে সাদা পোশাকে নজরদারি, টহল জোরদার এবং হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। যাতে কোনো পর্যটক হয়রানির শিকার না হন এবং নিরাপদে জেলার বিভিন্ন স্পটে ঘুরে বেড়াতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।
সব মিলিয়ে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পাহাড়ি কন্যা রাঙ্গামাটি আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উন্নত প্রস্তুতি, বাড়তি বুকিং এবং জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এবারও রাঙ্গামাটি ঈদ ভ্রমণের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হতে যাচ্ছে।