মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে দ্রুতই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা।
প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে লাখো মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। ফলে চিরচেনা যানজটের শহর এখন অনেকটাই শান্ত ও যানজটমুক্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ ছুটি শুরু হওয়ায় সপ্তাহের শুরু থেকেই ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। এর প্রভাবে রাজধানীর রাস্তাঘাট, অলিগলি এবং ব্যস্ত এলাকাগুলোতে মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ, পল্টন, মতিঝিল ও কমলাপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অন্য সময়ের তুলনায় যানবাহন ও মানুষের সংখ্যা অনেক কম। গণপরিবহনগুলোতেও যাত্রীর চাপ নেই বললেই চলে।
তবে গবাদি পশুর হাট ও প্রধান বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকাগুলোতে ঘরমুখো মানুষের চাপের কারণে কিছুটা যানজট লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে ফাঁকা রাস্তায় রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল বেড়েছে। চালকরা জানিয়েছেন, যানজট না থাকায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন এবং যাত্রীরাও অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া দিচ্ছেন।
আজ সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকালই ঈদ উদযাপিত হবে। তাই শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার জন্য নিউ মার্কেট, গুলিস্তান, বসুন্ধরা সিটি ও কারওয়ান বাজার এলাকায় ভিড় বাড়তে পারে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে তাদের প্রায় অর্ধেক যানবাহন আন্তঃজেলা রুটে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে চলাচল করছে। ভিড় সামাল দিতে অনেক পরিবহন কোম্পানি অতিরিক্ত বাসও নামিয়েছে।
এদিকে, ঈদকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
প্রধান বাস, লঞ্চ ও রেল টার্মিনালগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
যাত্রী হয়রানি, টিকিটের কালোবাজারি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।
মহাসড়কে যানজট কমাতে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি যারা ঢাকা ছাড়ছেন তাদের বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।