জাতিসংঘের সমুদ্র আইন (UNCLOS) মানতে ইরান বাধ্য নয় বলে জানিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নৌ-পদক্ষেপে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বাড়ছে উত্তেজনা

জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বা UNCLOS (আনক্লজ) মানতে ইরান আইনগতভাবে বাধ্য নয় বলে জানিয়েছেন আমির সাইদ ইরাভানি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক কঠোর নৌ-পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল ও যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
Middle East Eye-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই অবস্থান বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে।
ইরাভানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কিছু প্রভাবশালী দেশের বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ করেন। তার দাবি, এসব দেশ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ নিয়ে নীরব থাকলেও ইরানের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা করছে।
তিনি আরও বলেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়। এই পথে ইরানের কড়াকড়ির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের সমুদ্রসীমায় হুমকি অব্যাহত থাকলে তারা আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আনক্লজ নিয়ে ইরানের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। কারণ ইরান এই চুক্তির সব ধারায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়নি।
ফলে নিজেদের জলসীমায় নিজস্ব নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে তেহরান, যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।